সংসদে শোক প্রস্তাব : বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ‘সৌন্দর্য’! আহা!!
সংসদে শোক প্রস্তাব : বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ‘সৌন্দর্য’! আহা!!
আন্দোলন প্রতিবেদন
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ
গত মার্চে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গৃহীত শোক প্রস্তাবে রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা, স্বৈরাচার-গণতন্ত্র, ধর্মবাদ-প্রগতি, ফ্যাসিবাদ-জুলাই আকাঙ্ক্ষা সব একাকার হয়ে গেছে। বিশেষ করে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী/মানবতা বিরোধী অপরাধে অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকারদের নামেও শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এভাবে চললে আশা করা যায়, আগামীতে শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নামেও শোক প্রস্তাব আনা হবে।
এটা প্রমাণ করে, শাসকশ্রেণি গোষ্ঠীগত স্বার্থে একে অপরের বিরোধিতা করলেও মূল শ্রেণিচরিত্রগত জায়গায় তারা একে অপরকে রক্ষা করে। এরা পরস্পরের জন্য শোকে কাতর হয়। যে রাজাকারেরা ’৭১-এ এদেশের জনগণকে হত্যা করার সহযোগী ছিল, এদেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনকে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে, তাদের নেতাদের জন্য শোক প্রস্তাব আনা সেই শহিদ ও নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি অশ্রদ্ধা, অবমাননা ছাড়া আর কী হতে পারে?
শাপলা চত্বরে হাসিনার ফ্যাসিবাদ নির্মম হত্যাকাণ্ড করেছিল। কিন্তু সেখানে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের কোনো গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল কর্মসূচি ছিল না, এখনো নেই। শাপলা চত্বরকে মুক্তির মন্দির বানানোর মাধ্যমে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সকল চেতনাকে কবরস্ত করা হয়েছে।
বিএনপি এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও পাশ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করলো তারাও যুদ্ধাপরাধী/মানবতা বিরোধীদের চিহ্নিত, বিচার ও রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে চায় না। যতই তারা সংসদে জামাতের ’৭১-এর ভূমিকা নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা করুক না কেন।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন তাদের ন্যায়সংগত দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার জন্য। ইউনূস আমলেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য রানাপ্লাজায় প্রায় ১,২০০ শ্রমিক একত্রে নিহতের ঘটনা। তাদের নিয়ে শোক প্রস্তাব নেই। নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ, তাদের পুনর্বাসন নিয়ে কোনো আলোচনাও সংসদে নেই। পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও তাদের মদদপ্রাপ্ত স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সংগ্রামীদের বিষয়ে কোনো শোকপ্রস্তাব হয়নি। হাসিনা আমলে তথাকথিত ধর্মবাদী জঙ্গিদের হাতে নিহত বিজ্ঞানবাদী ব্যক্তিদের হত্যার বিষয়েও কোনো প্রস্তাব নেয়া হয়নি। এগুলো প্রমাণ করে, এই সংসদ শ্রমিক-কৃষক ও নিপীড়িত জনগণের সংসদ নয়, বরং গণবিরোধী গণশত্রুদের ক্লাব।
শাসকশ্রেণি ও তাদের জাতীয় সংসদের এই শ্রেণিচরিত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার নামে আজ ’৭১-এর রাজাকার, ৮০-দশকের সামরিক স্বৈরাচার এবং ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদকে তারা রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে ও মদদ দিয়ে চলেছে। অচিরেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের গুটিকয় নেতাদের বিচার প্রহসন করে তাদেরও রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হবে। তাই শ্রমিক-কৃষক-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণকে শাসকশ্রেণির গণবিরোধী রাজনীতি উন্মোচন ও প্রত্যাখান করতে হবে এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রামে সামিল হতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সংসদে শোক প্রস্তাব : বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ‘সৌন্দর্য’! আহা!!
গত মার্চে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গৃহীত শোক প্রস্তাবে রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা, স্বৈরাচার-গণতন্ত্র, ধর্মবাদ-প্রগতি, ফ্যাসিবাদ-জুলাই আকাঙ্ক্ষা সব একাকার হয়ে গেছে। বিশেষ করে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী/মানবতা বিরোধী অপরাধে অপরাধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকারদের নামেও শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। এভাবে চললে আশা করা যায়, আগামীতে শেখ হাসিনা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নামেও শোক প্রস্তাব আনা হবে।
এটা প্রমাণ করে, শাসকশ্রেণি গোষ্ঠীগত স্বার্থে একে অপরের বিরোধিতা করলেও মূল শ্রেণিচরিত্রগত জায়গায় তারা একে অপরকে রক্ষা করে। এরা পরস্পরের জন্য শোকে কাতর হয়। যে রাজাকারেরা ’৭১-এ এদেশের জনগণকে হত্যা করার সহযোগী ছিল, এদেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনকে তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে, তাদের নেতাদের জন্য শোক প্রস্তাব আনা সেই শহিদ ও নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি অশ্রদ্ধা, অবমাননা ছাড়া আর কী হতে পারে?
শাপলা চত্বরে হাসিনার ফ্যাসিবাদ নির্মম হত্যাকাণ্ড করেছিল। কিন্তু সেখানে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের কোনো গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল কর্মসূচি ছিল না, এখনো নেই। শাপলা চত্বরকে মুক্তির মন্দির বানানোর মাধ্যমে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সকল চেতনাকে কবরস্ত করা হয়েছে।
বিএনপি এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও পাশ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করলো তারাও যুদ্ধাপরাধী/মানবতা বিরোধীদের চিহ্নিত, বিচার ও রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে চায় না। যতই তারা সংসদে জামাতের ’৭১-এর ভূমিকা নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা করুক না কেন।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন তাদের ন্যায়সংগত দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার জন্য। ইউনূস আমলেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য রানাপ্লাজায় প্রায় ১,২০০ শ্রমিক একত্রে নিহতের ঘটনা। তাদের নিয়ে শোক প্রস্তাব নেই। নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ, তাদের পুনর্বাসন নিয়ে কোনো আলোচনাও সংসদে নেই। পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও তাদের মদদপ্রাপ্ত স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সংগ্রামীদের বিষয়ে কোনো শোকপ্রস্তাব হয়নি। হাসিনা আমলে তথাকথিত ধর্মবাদী জঙ্গিদের হাতে নিহত বিজ্ঞানবাদী ব্যক্তিদের হত্যার বিষয়েও কোনো প্রস্তাব নেয়া হয়নি। এগুলো প্রমাণ করে, এই সংসদ শ্রমিক-কৃষক ও নিপীড়িত জনগণের সংসদ নয়, বরং গণবিরোধী গণশত্রুদের ক্লাব।
শাসকশ্রেণি ও তাদের জাতীয় সংসদের এই শ্রেণিচরিত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার নামে আজ ’৭১-এর রাজাকার, ৮০-দশকের সামরিক স্বৈরাচার এবং ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদকে তারা রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে ও মদদ দিয়ে চলেছে। অচিরেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের গুটিকয় নেতাদের বিচার প্রহসন করে তাদেরও রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হবে। তাই শ্রমিক-কৃষক-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণকে শাসকশ্রেণির গণবিরোধী রাজনীতি উন্মোচন ও প্রত্যাখান করতে হবে এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রামে সামিল হতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র